ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

পল্লবীতে জমি 'দখলের চেষ্টা', পুলিশ হেফাজতে ৭

রাজধানীর পল্লবীর আলীনগর এলাকায় জমি ‘দখলচেষ্টার’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাতজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ আক্টোবর) সকালে ওই এলাকার একটি টিনশেড পাকা বাড়ি ভাংচুরের সময় তাদেরকে হেফাজতে নেওয়ার কথা বলেছেন পল্লবী থানার এসআই আল-আমিন।


তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়ে দেখতে পাই, সেখানে একটি টিনশেড বাড়ি ভাংচুর করা হচ্ছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। আটকদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।এ বিষয়ে পল্লবী থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন ‘মাহমুদ গ্রুপের’ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল।


তার ভাষ্য, প্রায় ৪৩ শতাংশের জায়গাটি এই গ্রুপের মালিক আমিনুল ইসলাম, সাইফুদ্দীন মাহমুদ ও মনসুর আনোয়ারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। যেটি ২০১৪ সালে তারা লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের কাছ থেকে কিনে নেন। ওই জমিতে টিনশেড পাকা ঘর ছিল, সেখানে প্রায় ৩৩টি কক্ষ ভাড়া দেওয়া ছিল বলে তথ্য দেন তিনি।


জমির বিক্রেতা সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ালই তার লোকজনই দিয়ে জায়গাটি আবার দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তার।


আউয়াল ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এবং তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব।


ইব্রাহিম খলিল বলেন, এই জমি নিয়ে একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের একটি স্থগিতাদেশ রয়েছে। তাদের ভাংচুরে ভীত হয়ে অনেক ভাড়াটিয়া ঘর ছেড়ে চলে গেছে। সেখানে দেখাশোনা করার জন্য আমাদের দুইজন নিরাপত্তা কর্মী ছিল, তারাও চলে যাবে বলে জানিয়েছে।


তিনি আওয়ালের পাশাপাশি হারুন নামে একজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন। তবে বাড়ি দখলের অভিযোগের বিষয়ে হারুন বলেন, আমার কোনো লোক সেখানে যায়নি। যে ভাড়াটিয়ারা ছিল, তারা নিজেরাই তাদের ঘর ভেঙে মালামাল নিয়ে চলে যাচ্ছে।


তার দাবি, জায়গাটি আওয়ালের কাছ থেকে আমিনুল ইসলাম, সাইফুদ্দীন মাহমুদ ও মনসুর আনোয়ার কিনেছিলেন ২০০৮ সালে। পরে সেটিকে আবার তারা ২০১৪ সালে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে ২০১৪ সালে আওয়ালকেই হস্তান্তর করেছেন।


চলতি বছরের গেল জুলাইয়ে আওয়ালের কাছ থেকে জায়গাটির একটি অংশ কিনেছেন বলে দাবি করেন হারুন।


হারুন বলেন, আমরা সেখানকার ভাড়াটিয়াদের জায়গা খালি করতে বলেছিলাম, কারণ সেখানে আমি অন্য কাজ করব। তারা নিজেরাই আজ সেখান থেকে ঘর ভেঙে নিয়ে চলে যাচ্ছেন।


তার ভাষ্য, তাদের কোনো বোঝাপড়া থাকলে আওয়াল সাহেবের সঙ্গে বুঝুক। আমিতো কিনেছি, আমার কাছে সব ডকুমেন্টস আছে। আমি যতটুকু কিনেছি, ততটুকুই দখলে যাব। তারা আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ করবে, আমিই তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করব।


এ বিষয়ে জানার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।


এসআই আল-আমিন বলেন, আমরা সবগুলো বিষয় যাচাই-বাছাই করছি। সাবেক এমপি আওয়াল ২০২১ সালের মে মাসে জমির বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে শাহীন উদ্দিন নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, পরে জামিনে মুক্ত হন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতারণার একটি মামলাতেও ঢাকার কলাবাগান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।


ads
ads
ads

Our Facebook Page

↑